বাংলাদেশ

রামপুরায় পিচ্চি আলামিনের ‘চাঁদা-রাজ’, আতঙ্কে দিশাহারা ব্যবসায়ীরা

মাছুদুর রহমান

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:৩২

রামপুরায় পিচ্চি আলামিনের ‘চাঁদা-রাজ’, আতঙ্কে দিশাহারা ব্যবসায়ীরা

রাজধানীর বনশ্রীর ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘গ্রিন জোন অনলাইনে’ দলবল নিয়ে সন্ত্রাসী পিচ্চি আলামিন (গোল চিহ্নিত)।

রাজধানীর রামপুরা-বনশ্রী এলাকায় ক্যাবল ইন্টারনেট (ব্রডব্যান্ড) ব্যবসা করতে হলে প্রথমে এককালীন দিতে হয় ২০ লাখ টাকা। এর পর প্রতি মাসে গুনতে হয় অতিরিক্ত ৫ লাখ টাকা চাঁদা।

 

শুধু টাকা দাবি করেই খান্ত নয়, এই চুক্তি নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরও করিয়ে নেয়া হয়। চাঁদা না দিলে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের দিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও ব্যবসায়ীদের অপহরণ করে কথিত ‘টর্চার সেলে’ নিয়ে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।

 

শুধু ইন্টারনেট ব্যবসাই নয়; এলাকার নতুন ভবন নির্মাণ, কাঁচাবাজার, বিপণিবিতান এমনকি স্থানীয় লেগুনা ও টেম্পো স্ট্যান্ড থেকেও নিয়মিত চাঁদা তোলা হচ্ছে।

 

রামপুরা-বনশ্রী এলাকার এই চাঁদাবাজির পেছনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘পিচ্চি আলামিন’। তার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও মারামারিসহ অন্তত ২৩টি মামলা রয়েছে। পিচ্চি আলামিনের অব্যাহত হুমকি ও তাণ্ডবে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

 

ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর বনশ্রীর ‘গ্রিন জোন অনলাইন’ নামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি কিশোর গ্যাং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হানা দেয়।

 

প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকায় তারা সেখান থেকে ফিরে যায়। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসেও সন্ত্রাসী পিচ্চি আলামিন নিজে দলবল নিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে অস্ত্র উঁচিয়ে হামলা চালায়। সে সময় প্রতিষ্ঠানের মালিককে উঠিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয় এবং তা সম্ভব না হলে সাদা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয়ার চেষ্টা করা হয়।

 

এক পর্যায়ে চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় ওই ইন্টারনেট ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে গিয়ে টর্চার সেলে নির্যাতন চালানো হয়। পরে কোনোমতে তিনি মুক্তি পেলেও সন্ত্রাসী চক্রটির চাঁদা দাবির দৌরাত্ম্য থামেনি। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ পিচ্চি আলামিনসহ ৫ জনকে শনাক্ত করেছে। এ ঘটনায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে রামপুরা থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, গত জুন মাসে রামপুরায় সংঘটিত আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘কাইল্লা পলাশ’ হত্যাকাণ্ডের পেছনেও পিচ্চি আলামিনের নাম উঠে আসে। ওই হত্যা মামলার প্রধান আসামিদের একজন তিনি। হত্যা থেকে শুরু করে রামপুরা কাঁচাবাজারের চাঁদা নিয়ন্ত্রণ–সবকিছুতেই রয়েছে এই অপরাধীর ছায়া।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে অনেক মামলা আছে। আমরা তার বিষয়ে কনসার্ন। আমরা বিভিন্নভাবে রেইডও করেছি। কিছু সহযোগী অ্যারেস্ট হয়েছে। সে অ্যারেস্ট হয়নি। তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।’

 

এদিকে এলাকার ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি আলামিন ও তার বাহিনীর সদস্যদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন রামপুরা-বনশ্রীর বাসিন্দারা।

রামপুরায় পিচ্চি আলামিনের ‘চাঁদা-রাজ’, আতঙ্কে দিশাহারা ব্যবসায়ীরা | সময় নিউজ