বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

এআইয়ের সুফলের জন্য কিছু ঝুঁকি মেনে নিতে হবে: স্যাম অল্টম্যান

বাণিজ্য ডেস্ক

প্রকাশ: ৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৮

এআইয়ের সুফলের জন্য কিছু ঝুঁকি মেনে নিতে হবে: স্যাম অল্টম্যান

সান ফ্রান্সিসকোতে ওপেনএআই-এর বার্ষিক ডেভডে অনুষ্ঠানের দিন এক সাক্ষাৎকারে প্রতিষ্ঠানটির সিইও স্যাম অল্টম্যান। ছবি: রয়টার্স

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সুফল পেতে হলে কিছু ঝুঁকি মেনে নেয়া যৌক্তিক বলে মনে করেন ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, এআই প্রযুক্তি সাধারণ মানুষের জন্য ব্যাপকভাবে সহজলভ্য থাকা উচিত।


পলিটিকোর প্রযুক্তিবিষয়ক নিউজলেটার ‘ডিকোডেড’-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে অল্টম্যান বলেন, এআইয়ের সুবিধা এবং মানুষের স্বাধিকার নিশ্চিত করতে হলে বিশ্বের কিছু খারাপ ঘটনা ঘটার ঝুঁকি মেনে নেয়া উচিত।


এআই নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ওপেনএআই ও প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যানথ্রোপিকের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে বলেও জানান তিনি। অল্টম্যান বলেন, এ বিষয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যথেষ্ট মতপার্থক্য রয়েছে।


অল্টম্যান বলেন, কেউ কেউ মনে করেন, এআই এতটাই শক্তিশালী ও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে যে, এটি শুধু সান ফ্রান্সিসকোর একটি গবেষণাগারের মতো সীমিত পরিসরে রাখা উচিত। পাশাপাশি, কোনো খারাপ ঘটনা যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করার পর এ প্রযুক্তির সুবিধা কীভাবে মানুষের মধ্যে বণ্টন করা হবে, সেটিও ঠিক করা উচিত।


তবে এ ধরনের অবস্থানের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে অল্টম্যান এটিকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য আপস’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ওপেনএআই এআই নিয়ন্ত্রণে ‘নমনীয় নিয়ন্ত্রক নীতি’র পক্ষে।


অল্টম্যান বলেন, কোনো বড় ধরনের হ্যাকিং, এআইয়ের অপব্যবহার, প্রতারণা বা অন্য কোনো নেতিবাচক ঘটনা একেবারেই ঘটবে না-এমন শর্তে তিনি কোনো আপস করবেন না। কারণ, তার মতে, মানুষ খারাপ কাজের চেয়ে বহুগুণ বেশি ভালো কাজ করবে।


এআই শিল্পে প্রযুক্তির উন্নয়নের গতি এবং ক্রমবর্ধমান সক্ষম এআই সিস্টেম থেকে তৈরি হওয়া ঝুঁকি নিয়ে যখন বিতর্ক চলছে, তখন অল্টম্যানের এমন মন্তব্য সামনে এলো।


গত সেপ্টেম্বরে অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী ডারিও আমোডি একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করে এআই শিল্পকে ‘অগ্রগতির সঙ্গে তাল মেলাতে’ উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান জানান। অল্টম্যান প্রকাশ্যে ওই অবস্থানকে সমর্থন করেছিলেন।


একই মাসে অ্যানথ্রোপিকের গবেষক জ্যাকব কক্সন পদত্যাগ করে বলেন, এআই তৈরির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বিশ্বাস করেন, এই প্রযুক্তি ‘এই দশকের শেষ নাগাদ আমাদের সবাইকে মেরে ফেলতে পারে’।


সেপ্টেম্বরে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যানথ্রোপিক সতর্ক করেছে যে এআইয়ের সম্ভাব্য সুবিধা থাকলেও প্রযুক্তিটি কখনও কখনও এমনভাবে কাজ করতে পারে, যা এর নির্মাতাদের উদ্দেশ্যের বিপরীত। এমনকি এটি অন্য কোম্পানির এআই সিস্টেমে অনুপ্রবেশও করতে পারে।


অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, উন্নত এআই মডেলগুলো ‘আত্মরক্ষামূলক আচরণ’ দেখাতে পারে। এর মধ্যে বন্ধ করে দেয়া ঠেকানোর চেষ্টা, তথ্য গোপন বা হেরফের করা এবং এমন আউটপুট তৈরি করা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, যেগুলোকে জবরদস্তিমূলক, প্রতারণামূলক বা কারসাজিপূর্ণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়।


তবে নতুন বিধিনিষেধ আরোপের আহ্বান মূলত নাকচ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার যুক্তি, অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে চীনা প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় মার্কিন কোম্পানিগুলো পিছিয়ে পড়তে পারে।


ট্রাম্প বারবার বলেছেন, বিচার বিভাগসহ বিদ্যমান আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোই এআই থেকে তৈরি ঝুঁকি মোকাবিলায় যথেষ্ট সুরক্ষা দিতে পারে। এ কারণে নতুন করে কোনো বিধিনিষেধের প্রয়োজন নেই বলেও মনে করেন তিনি।

এআইয়ের সুফলের জন্য কিছু ঝুঁকি মেনে নিতে হবে: স্যাম অল্টম্যান | সময় নিউজ