অর্থ-বাণিজ্য

নভেম্বরে অপরিবর্তিত থাকছে ওপেক প্লাসের তেল উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা

বাণিজ্য ডেস্ক

প্রকাশ: ৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২২

নভেম্বরে অপরিবর্তিত থাকছে ওপেক প্লাসের তেল উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা

ওপেকের লোগো। ছবি: রয়টার্স

উৎপাদক গোষ্ঠী ওপেক প্লাস আগামী নভেম্বরের জন্য তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এক সংক্ষিপ্ত অনলাইন বৈঠকে গোষ্ঠীটির সাতটি প্রধান সদস্য এ সিদ্ধান্ত নেয়। আগামী বছরের আগে উৎপাদন নীতিতে আর কোনো পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা নেই; এমন প্রত্যাশারই প্রতিফলন এই সিদ্ধান্তে।


পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক এবং রাশিয়াসহ মিত্র দেশগুলোকে নিয়ে গঠিত ওপেক প্লাসের সাতটি প্রধান সদস্য হলো সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, কুয়েত, আলজেরিয়া, কাজাখস্তান ও ওমান।


ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে রফতানি বিঘ্নিত হওয়ায় উপসাগরীয় ওপেক প্লাস দেশগুলো তাদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক কম তেল উত্তোলন করছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তাদের রফতানি স্বাভাবিক সময়ের ৬০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করেছে।


ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভান্নি স্টাউনোভো বলেন, বাজারের প্রত্যাশা অনুযায়ী সাত সদস্যের ওপেক প্লাস গোষ্ঠী উৎপাদনের সর্বোচ্চ সীমা অপরিবর্তিত রেখেছে। তবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের প্রবাহ বাড়লেও তাদের উৎপাদন এখনও নির্ধারিত কোটার তুলনায় অনেক কম।


এর ফলে তেলের বাজার সংকুচিত অবস্থায় রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডিজেল মজুত ছাড়ার অনুরোধে ইউরোপীয় নেতারা সম্মত হওয়ার পর শুক্রবার তেলের দাম কমে যায়। তবে এরপরও ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে রয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে এই দাম ছিল প্রায় ৭৩ ডলার।


চলতি বছর ওপেক প্লাসের উৎপাদন বৃদ্ধিও মূলত কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকেছে।


শিল্প খাতের সূত্রগুলো গত সপ্তাহে রয়টার্সকে জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের কারণে ওপেক প্লাসের উৎপাদন সক্ষমতা পর্যালোচনার কাজও বিলম্বিত হয়েছে। সদস্য দেশগুলোর ২০২৭ সালের উৎপাদন কোটা নির্ধারণের জন্য এই পর্যালোচনা গুরুত্বপূর্ণ। তবে যুদ্ধের কারণে ভবিষ্যতে উৎপাদনের সম্ভাবনা কতটা থাকবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।


বছরের পর বছর উৎপাদন কমানোর পর ওপেক প্লাস ২০২৬ সালের বেশিরভাগ সময়জুড়ে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়েছে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে উৎপাদন বৃদ্ধির বড় অংশই বাস্তবে দেখা যায়নি।


ওপেকের তথ্য অনুযায়ী, গোষ্ঠীটির সাত প্রধান সদস্য আগস্টে দৈনিক ২ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলন করেছে। জুলাইয়ের তুলনায় যা ৬ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল বেশি। তবে ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর আগের উৎপাদনের তুলনায় এটি এখনও দৈনিক প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল কম।


আগামী ১ নভেম্বর সাত সদস্যের পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।


এদিকে, ওপেক প্লাস এখনও বেশিরভাগ সদস্যকে নিয়ে দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল উৎপাদন কমানোর ব্যবস্থা চালু রেখেছে। উৎপাদন বৃদ্ধির পরিমাণ ও তা কীভাবে সদস্যদের মধ্যে ভাগ হবে, তা নির্ধারণে সক্ষমতা পর্যালোচনার ফলাফল প্রয়োজন। সূত্রগুলো বলছে, ২০২৭ সালের আগে উৎপাদনে কোনো পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা নেই।


এ ছাড়া ওপেক প্লাসের পৃথক মন্ত্রী পর্যায়ের গোষ্ঠী যৌথ মন্ত্রী পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ কমিটিও (জেএমএমসি) রোববার বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য বৈঠকে বসে। তবে এই কমিটির নীতি নির্ধারণের ক্ষমতা নেই।

নভেম্বরে অপরিবর্তিত থাকছে ওপেক প্লাসের তেল উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা | সময় নিউজ