আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:১১

অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুসের কাছে জলপাই সংগ্রহের সময় ফিলিস্তিনি কৃষককে সরিয়ে দিচ্ছেন ইসারাইলের নিরাপত্তারক্ষী। ছবি: রয়টার্স
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি সেটেলার তথা অবৈধ বসতিস্থাপনকারী ও নিরাপত্তা কর্মীদের হামলা ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। এতে সম্পদ ও জমির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ওয়াল অ্যান্ড সেটলমেন্ট রেজিস্ট্যান্স কমিশন’ জানিয়েছে, গত সেপ্টেম্বর মাসে ইসরাইলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের ওপর এবং তাদের জমি ও সম্পদের ওপর ২ হাজার ৫১টি হামলা চালিয়েছে।
প্রতিবেদন মতে, এর মধ্যে ১ হাজার ৪০৪টি হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী আর ৬৪৭টি হামলা চালিয়েছে বসতি স্থাপনকারীরা।
ওয়াফিা জানায়, রামাল্লা ও আল বিরেহ এলাকায় সবচেয়ে বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে। বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় ৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন ৮৮ জন। হামলায় ১৪ হাজার ৬০০টি গাছ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, যার মধ্যে ৯ হাজার ৩৩৪টি ছিল জলপাই গাছ।
প্রতিবেদনে নতুন অবৈধ বসতি স্থাপনের ২১টি প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, পাশাপাশি ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ জমি বাজেয়াপ্ত ও গাছ উপড়ে ফেলার আদেশ অব্যাহত রেখেছে। কমিশন জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার ৬৩৫ ডুনাম জমি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ ৬২টি উচ্ছেদ বা স্থাপনা ধ্বংসের অভিযান চালিয়েছে, যার ফলে ২৫৪টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ১৬৪ জন শিশুসহ মোট ৩২০ জন ফিলিস্তিনি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এদিকে, বৃহস্পতিবারও পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের জলপাই বাগানে হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি সেটেলাররা। এ সময় রামাল্লার কাছে আল-মুঘাইয়ির গ্রামে একদল সেটেলার তথা অবৈধ বসতিস্থাপনকারী ফিলিস্তিনি কৃষকদের জলপাই লুট করে নিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, ইসরাইলি সেনাদের সুরক্ষায় বসতিস্থাপনকারীরা ওই এলাকায় প্রবেশ করে এবং ফিলিস্তিনি কৃষকদের জলপাই সংগ্রহে বাধা দেয়। পরে তারা বাগান থেকে জলপাই নিয়ে যায়।
ফিলিস্তিনিদের কৃষিজমি ও জলপাই বাগানে ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। বিশেষ করে জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে এ ধরনের হামলা ও হয়রানির অভিযোগ বেড়ে যায়। এতে কৃষকরা তাদের ফসল সংগ্রহ ও জীবিকা নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় পড়েন।

