আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫০

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলের জালুদ গ্রামে রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছে ইসরাইলি সেটেলার তথা অবৈধ বসতিস্থাপনকারীরা। ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ও যানবাহনে হামলার পাশাপাশি আগুন দেয়া হয়েছে। হামলায় অন্তত দুইটি বাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নাবলুসের দক্ষিণে অবস্থিত জালুদ গ্রামে আল-তুবাসি পরিবারের দুটি বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এর কয়েক ঘণ্টা আগে প্রায় দুই মাস বাস্তুচ্যুত থাকার পর ইসরাইলি আদালতের একটি সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পরিবারটি নিজেদের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পরই সেটেলার তথা অবৈধ বসতিস্থাপনকারীরা তাদের ওপর হামলা চালায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা দুটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে বাড়িগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং সেগুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। একটি গাড়িতেও আগুন দেওয়া হয়। হামলার সময় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরিবারটির সদস্যরা প্রায় দুই মাস আগে বসতিস্থাপনকারীদের হামলা ও হয়রানির কারণে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। পরে ইসরাইলি আদালতের নির্দেশে তাদের বাড়িতে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়। মঙ্গলবার ইসরাইলি বাহিনীর নিরাপত্তায় তারা বাড়িতে ফিরতে গেলে সেটেলার তথা অবৈধ বসতিস্থাপনকারীরা তাদের পথ আটকে দেয় এবং হামলা চালায়।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনীও জালুদে শতাধিক সেটেলার তথা অবৈধ বসতিস্থাপনকারী সহিংসতায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। বাহিনীর দাবি, তারা রাস্তা অবরোধ করে, টায়ারে আগুন দেয় এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইসরাইলি সেনা ও সীমান্তরক্ষী পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে সহিংসতার কারণে ফিলিস্তিনি পরিবারটির বাড়িতে ফেরার অভিযান শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি বলে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ভাষ্য মতে, সংঘর্ষে তিনজন সীমান্তরক্ষী পুলিশ সদস্য সামান্য আহত হন এবং একটি নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার ঘটনায় অন্তত দুই বসতিস্থাপনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে।
হামলার নিন্দা জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের এক কর্মকর্তাও জালুদে হামলার খবরের কথা উল্লেখ করে পশ্চিম তীরে যেকোনো পক্ষের অপরাধমূলক সহিংসতার নিন্দা এবং তদন্ত ও আইনি জবাবদিহির পক্ষে অবস্থান জানান।
জালুদের পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীরের আল-মুঘাইয়ির ও কারইউত এলাকাতেও সেটেলার তথা অবৈধ বসতিস্থাপনকারীদের হামলার খবর পাওয়া গেছে। আল-মুঘাইয়িরে ফিলিস্তিনি বাড়িঘর ও সম্পত্তিতে হামলা এবং অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। কারইউতে একটি বাড়িতে ঢুকে এক বয়স্ক ফিলিস্তিনি নারীকে মারধরের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দফতর বা ওসিএইচএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত পশ্চিম তীরে সেটেলার তথা অবৈধ বসতিস্থাপনকারীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১ হাজার ৩৩০টির বেশি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ছয়টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা প্রায় দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগতির বৃদ্ধির অন্যতম উদাহরণ।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেটেলার তথা অবৈধ বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগও বেড়েছে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা এর আগে সতর্ক করে বলেছেন, ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা ও বাস্তুচ্যুতি ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। একই সময়ে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণ নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিরোধিতা অব্যাহত রয়েছে।

