শওকত আলী সৈকত, নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৫৬

নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর এলাকায় কেন্দ্রীয় সিটি কবরস্থানের সীমানা প্রাচীরের অভ্যন্তরে অবস্থিত এই মহামিলনস্থল। এক দেয়ালের ভেতরে হলেও প্রতিটি সমাধিস্থলে প্রবেশের আলাদা ফটক রয়েছে। এমন সমাধিস্থল আর কোথাও না থাকায় এটি ঐতিহাসিক তীর্থস্থান হিসেবে দেশ বিদেশে বিশেষ খ্যাতি পেয়েছে। এছাড়া কবরস্থান মসজিদে নামাজ, শ্মশানে পূজা অর্চনা, খ্রিষ্টানদের বাইবেল পাঠ ও বৌদ্ধদের প্রার্থনাসহ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হচ্ছে। সম্প্রতি সংস্কার ও সৌন্দর্য বাড়িয়ে স্থানটি দৃষ্টিনন্দন করে তুলেছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন।
জানা যায়, প্রায় ২০০ বছর আগে ব্রিটিশ শাসন আমলে হরকান্ত ব্যানার্জী নামে এক হিন্দু জমিদার তার বাবার মরদেহ শেষকৃত্যের জন্য অন্য জেলায় যাওয়া-আসা করতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন। আর কেউ যেন এমন ভোগান্তিতে না পড়েন সে উদ্দেশ্যে সব ধর্মের মানুষের মৃত্যুর পর শেষ ঠিকানার জন্য প্রায় ১০ একর জমির ওপর নির্মিত এই সমাধিস্থল জায়গাটি দান করেন তিনি। এরপর থেকে ধর্মীয় সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে চার ধর্মের মানুষ দাফন, দাহ ও শেষকৃত্য পালন করে আসছেন। সেখানে পাশাপাশি সহঅবস্থানে রয়েছে।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি লিটন চন্দ্র পাল সময় সংবাদকে বলেন, এখানে মুসলমানদের কবরস্থান, খ্রিস্টানদের কবরস্থান, হিন্দুদের শ্মশান এবং বৌদ্ধদের দাহ এক সঙ্গে পালন করা হচ্ছে। আমাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। আমরা যুগ যুগ ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে যার যার ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালন করে আসছি। এক দেয়ালের ভেতরে চার ধর্মের মানুষের এমন সমাধিস্থল সারা বিশ্বে বিরল। তাই সরকারের কাছে আমাদের দাবি, এই স্থানটিকে যেন গিনেজ রেকর্ড বুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাহলেসারা বিশ্বের মানুষ এই স্থান সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবে।
একসঙ্গে চার ধর্মের এই সমাধিস্থলকে বিশ্বের নজিরবিহীন তীর্থস্থান হিসেবে উল্লেখ করে এটিকে গিনেজ বুকে অন্তর্ভুক্ত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান।
সময় সংবাদকে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কবরস্থানের এক দেয়ালের ভেতরে চার ধর্মের মানুষের সমাধিস্থল সারা পৃথিবীতে ধর্মীয় সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই স্থানটিকে গিনেজ রেকর্ড বুকে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে আমরা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আবেদন জানাবো। এটি গিনেজ বুকে লিপিবদ্ধ হলে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে উৎসাহ বাড়বে এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির বন্ধন সৃষ্টি হবে।

