আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৩২

এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার (২ অক্টোবর) দিল্লির যন্তর মন্তরে একাধিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভে নেমেছেন। ছবি: সংগৃহীত
নির্বাচন কমিশনের ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার (২ অক্টোবর) দিল্লির যন্তর মন্তরে একাধিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভে নেমেছেন। এ সময় বিভিন্ন সংগঠনের ৭০০ এর বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ন্যাশনাল হ্যারাল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি। এছাড়া মধ্য দিল্লিতে বিভিন্ন বিধিনিষেধও জারি করে স্থানীয় পুলিশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যন্তর মন্তর থেকে আম আদমি পার্টি (এএপি) নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ ও সঞ্জীব ঝাকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আতিশি এবং রাজ্যসভার এমপি সঞ্জয় সিংও রয়েছেন। বিক্ষোভস্থলের দিকে যাওয়ার সময় নর্থ অ্যাভিনিউ এলাকায় সঞ্জয় সিংকে থামিয়ে দেয় পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টার সময় স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার প্রায় ৭০০ সদস্যকে অশোকা রোডের মোড় এলাকায় আটকে দেয়া হয়। তাদের অনেককে আটক করা হয়েছে। এছাড়া অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (এআইএসএ), এসএফআই, ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া (এনএসইউআই) এবং বিভিন্ন যুব ও ছাত্র সংগঠনের আরও বিক্ষোভকারীকে জন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে।
বিক্ষোভ চলাকালে আটক ব্যক্তির সংখ্যা নিয়ে পুলিশের হিসাবে পার্থক্য দেখা গেছে। কিছু প্রতিবেদনে আটক ব্যক্তির সংখ্যা ৫০০-এর বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন ককরোচ জনতা পার্টির নেতাকর্মীরা।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সেখানে আগে থেকেই বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ পার্কের ৬ নম্বর গেটের সামনে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
অভিনেত্রী শাবানা আজমি ও সংগীতশিল্পী বিশাল দাদলানিসহ বেশ কয়েকজন তারকা এতে যোগ দিতে পারেন বলে জানা গেছে। এর আগে সিজেপি নাগরিকদের বিক্ষোভে অংশ নেয়ার আহ্বান জানায়। অক্টোবরজুড়ে দেশটির বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক বিক্ষোভ ও জনসম্পৃক্ততা কর্মসূচির মাধ্যমে এই আন্দোলন ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, দেশজুড়ে চলা এই কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত নয়াদিল্লির জন্তর মন্তরে একটি বড় বিক্ষোভের মাধ্যমে শেষ হবে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, ন্যাশনাল হ্যারাল্ড

