নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:১৮

চাঁদার দাবিতে মারধর এবং ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক ছড়ানোর মামলায় যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা ফেরদৌস আহাম্মেদ সাইমনসহ চার জনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রাজধানীর বাংলামোটরে চাঁদার দাবিতে মারধর এবং ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক ছড়ানোর মামলায় যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা ফেরদৌস আহাম্মেদ সাইমনের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একইসঙ্গে অন্য তিন আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
রিমান্ডে যাওয়া অপর আসামিরা হলেন ওমর (৩২), মোর্শেদ (২৫) ও মো. শাওন (২৫)।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আরিফ রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শুনানির সময় আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।
আসামিদের আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন হাতিরঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. নাসিম।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ১ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে হাতিরঝিল থানাধীন বাংলামোটরের নিউ ইস্কাটন এলাকায় একটি বাসার সামনে বাদী মো. সোহানের পথরোধ করেন আসামিরা। এ সময় প্রধান আসামি ফেরদৌস আহমেদ সাইমন তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাইমন পিস্তল বের করে তার বুকের দিকে তাক করেন এবং গুলি করার চেষ্টা করেন।
একপর্যায়ে পিস্তলের বাট দিয়ে সোহানের মাথায় আঘাত করা হয়। অন্য আসামিরাও তাকে মারধর করে। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।
আহত সোহান স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য যাওয়ার পথে তার ভগ্নিপতি মো. মোক্তার হোসেন তার সঙ্গে যোগ দেন।
এ সময় সাইমনসহ অন্য আসামিরা মোটরসাইকেলে করে সেখানে এসে আবারও সোহানকে মারধরের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বাধা দিতে গেলে মোক্তার হোসেনকেও মারধর করা হয়। এ সময় সাইমন পিস্তল দিয়ে ফাঁকা গুলি ছোড়েন।
পরে স্থানীয় লোকজন ধাওয়া করে কয়েকজনকে আটক করেন। পালানোর চেষ্টাকালে সাইমনকেও আটক করা হয়। খবর পেয়ে হাতিরঝিল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়। পরে এ ঘটনায় সোহান বাদী হয়ে হাতিরঝিল থানায় মামলা করেন।
আসামিদের বিরুদ্ধে হাতিরঝিল ও কলাবাগান থানায় বিভিন্ন মাদক মামলা রয়েছে বলেও পুলিশের রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

