আন্তর্জাতিক

ভারতের হত্যার দাবি করা সেনাকে জীবিত হাজির করল পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:১৪

ভারতের হত্যার দাবি করা সেনাকে জীবিত হাজির করল পাকিস্তান

সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক (ডিজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরীর সঙ্গে মুহাম্মদ আসিফ। ছবি: সংগৃহীত

ভারত শাসিত কাশ্মীরে এক শীর্ষ বিদ্রোহী কমান্ডারকে হত্যার যে দাবি ভারত করেছিল, সেটি প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। একইসঙ্গে ভারতের হত্যার দাবি করা সেই পাকিস্তানি সাবেক সেনাকে সংবাদ সম্মেলনে হাজির করা হয়।

 

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক (ডিজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী এক সংবাদ সম্মেলনে সাবেক সেনাসদস্য হাবিলদার মুহাম্মদ আসিফকে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করেন।

 

শুক্রবার টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইএসপিআর ডিজি ভারতের দাবিকে বানোয়াট উল্লেখ করে বলেন, ভারত আরেকটি ‘ফলস-ফ্ল্যাগ অপারেশন’-এর মাধ্যমে এমন একটি ঘটনা তৈরি করেছে।

 

ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, জম্মু ও কাশ্মীরের (আইআইওজেকে) একটি সংঘর্ষে সাবেক পাকিস্তানি সেনাসদস্য মুহাম্মদ আসিফ নিহত হয়েছেন।

 

জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি শুরু হয় বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে। ওই রাতে ভারতীয় সামরিক বাহিনী সামাজিক মাধ্যমে জানায়, কোরাগ, ইউসমার্গ এলাকায় একটি যৌথ তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে এবং সেখানে একজন ‘সন্ত্রাসী’কে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

 

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ভারত-শাসিত কাশ্মীরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চালানো এক অভিযানে ভারতীয় সেনারা লস্কর-ই-তৈয়বার এক শীর্ষ কমান্ডারকে হত্যা করেছে। ওই কমান্ডারের নাম মুসা, যিনি ‘আসিফ ফৌজি’ নামেও পরিচিত ছিলেন। একইসঙ্গে মন্ত্রণালয় বুধবারের এই ঘটনাকে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর জন্য বড় আঘাত হিসেবে বর্ণনা করে। তারা জানায়, ২০২২ সাল থেকে বিতর্কিত ওই অঞ্চলে বেশ কয়েকটি বড় হামলায় চারজন কমান্ডারের দলের মধ্যে তিনিই ছিলেন সর্বশেষ জীবিত সদস্য।

 

এছাড়া ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মোহাম্মদ আসিফ ১৯৮০ সালের ৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২০০০ সালে পিএ-৩১০৬৯৪৭ সার্ভিস নম্বরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং হাবিলদার পদ থেকে অবসর নেন। ২০০৫ সালে তিনি স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপে (এসএসজি) যুক্ত হন এবং ৪ কমান্ডো ইয়ালগার ব্যাটালিয়নে দায়িত্ব পালন করেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী ভারতের হামলায় নিহত ওই ব্যক্তিকে মোহাম্মদ আসিফ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। ভারতকে ব্যঙ্গ করে জীবিত আসিফকে দেখিয়ে তিনি বলেন, এই সেই ‘সুপারম্যান’। আপনারা এই সুপারম্যানকে দেখতে পাচ্ছেন।

 

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা আসিফ। তিনি জানান, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীতে দীর্ঘ চাকরি শেষে ২০২৩ সালে তিনি অবসরে গেছেন। কাশ্মীরের বন্দুকযুদ্ধে তার মৃত্যুর খবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দেখার পর তার বন্ধুরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘তাদের উদ্বেগের জবাবে আমি জানাই যে আমি এখানেই আছি—জীবিত ও সুস্থ।’

 

আসিফ আরও জানান, নিজের পরিচয় স্পষ্ট করতেই তিনি সামনে এসেছেন। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, তার মৃত্যুর খবর প্রচারের সময় ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) হিসেবে যা দেখিয়েছিল, তা আসলে তার পরিচয়পত্রই ছিল।

 

এই সাবেক সেনাসদস্য বলেন, ‘আমি খুবই অবাক হয়েছিলাম। আমি বাড়িতে বসে আছি, অথচ তারা দাবি করছিল যে আমাকে কাশ্মীরে হত্যা করা হয়েছে। সৃষ্টিকর্তারা কৃপায় আমি জীবিত আছি এবং আপনাদের সামনে উপস্থিত।

 

তথ্যসূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

ভারতের হত্যার দাবি করা সেনাকে জীবিত হাজির করল পাকিস্তান | সময় নিউজ