বাংলাদেশ

মশা নিধনে নানা উদ্যোগ, তবুও কেন নিয়ন্ত্রণে আসছে না ডেঙ্গু?

মিরন আহমেদ

প্রকাশ: ২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৭

মশা নিধনে নানা উদ্যোগ, তবুও কেন নিয়ন্ত্রণে আসছে না ডেঙ্গু?

মশা নিধনে ছিটানো হচ্ছে লার্ভিসাইড ও এডাল্টিসাইড। ছবি: সময় সংবাদ

এডিসের প্রজননক্ষেত্র ধ্বংসে সিটি করপোরেশনগুলোর নানা উদ্যোগের পাশাপাশি মশক নিধনে চলছে ক্রাশ প্রোগ্রাম। নালা-নর্দমা ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ছিটানো হচ্ছে লার্ভিসাইড ও এডাল্টিসাইড। জনসচেতনতা বাড়াতেও চালানো হচ্ছে নানা প্রচার-প্রচারণা। তারপরও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আশানুরূপ ফল মিলছে না। ফলে মশক নিধন কার্যক্রমের মান ও নিয়মিত তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে জনমনে।

 

নাগরিক জীবনে এখন মহা আতঙ্কের নাম ডেঙ্গু। প্রতিটি জনপদেই তৈরি হয়েছে এডিস মশার অসংখ্য অভয়াশ্রম। প্রতিনিয়ত বাড়ছে সংক্রমণ, হারিয়ে যাচ্ছে তাজা প্রাণ। এডিসের লার্ভা ধ্বংসে নিয়মিত চলছে অভিযান। সিটি করপোরেশনগুলোর উদ্যোগে মশক নিধনে ক্রাশ প্রোগ্রামও চলমান। নালা-নর্দমা ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ছিটানো হচ্ছে অত্যাধুনিক ওষুধ লার্ভিসাইড ও এডাল্টিসাইড।

 

জনসচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণের পাশাপাশি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতেও নানাভাবে প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তারপরও নিয়ন্ত্রণে আসছে না ডেঙ্গু। নগরবাসীর অভিযোগ, এডিস ধ্বংসে সরকারের উদ্যোগ পর্যাপ্ত নয়। মানসম্মত ওষুধ দিয়ে নিয়মিত অভিযান চালানোর দাবি তাদের।


পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসনে পানির প্রবাহ বাড়াতে খালগুলো দখলমুক্ত এবং নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখার তাগিদও দিয়েছেন নগরবাসী। ভুক্তভোগী এক নাগরিক আক্ষেপ করে বলেন, চার মাস ধরে বাড়িতে কোনো ময়লার গাড়ি বা ময়লাওয়ালা আসছে না। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও হচ্ছে না।


তবে কিছু সীমাবদ্ধতার পরও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ক্রাশ প্রোগ্রাম চালু রাখা এবং হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিট রাখার আশ্বাস দিয়েছে সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, প্রতিটি মহল্লায় ওষুধ ছিটানো হচ্ছে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। খাল ও পুকুরসহ সবকিছু পরিষ্কার করা হচ্ছে।


ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন বলেন, প্রতিটি টিম পাঁচটি ফগার ও দুটি স্প্রে মেশিন নিয়ে কাজ করছে। সবচেয়ে স্পর্শকাতর আটটি ওয়ার্ডে প্রতিদিন এবং বাকি ওয়ার্ডগুলোতে পর্যায়ক্রমে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে।


চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, যেখানে পানি জমে থাকছে কিংবা পরিত্যক্ত বাড়ি রয়েছে, সেখানে জরিমানার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া যত্রতত্র ডাবের খোসা বা প্লাস্টিকের বোতল না ফেলা এবং পানি জমিয়ে না রাখার জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।


রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক ডা. মেশকাতুল আবেদ বলেন, বর্তমানে সব হাসপাতালেই ডেঙ্গু টেস্টের কিট পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে এবং চিকিৎসার গাইডলাইন অনুযায়ী চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।


ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকে নিয়মিত বাসা-বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার রাখা, নালা-নর্দমায় আবর্জনা না ফেলা এবং মশারি টানিয়ে ঘুমানোসহ সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ।

মশা নিধনে নানা উদ্যোগ, তবুও কেন নিয়ন্ত্রণে আসছে না ডেঙ্গু? | সময় নিউজ