বাংলাদেশ

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম তদন্তে গতি নেই, ১০ বছরেও জমা হয়নি ৪ হাজার প্রতিবেদন

নূরে আলম

প্রকাশ: ২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৫

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম তদন্তে গতি নেই, ১০ বছরেও জমা হয়নি ৪ হাজার প্রতিবেদন

পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতর। ফাইল ছবি

৫ থেকে ১০ বছর আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অনিয়মের তদন্ত করা হলেও এখনো জমা দেয়া হয়নি প্রতিবেদন। এমন ৪ হাজারের বেশি নিরীক্ষা ও তদন্ত করেছেন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরের কর্মকর্তারা। অভিযোগ রয়েছে, টাকার বিনিময়ে আলোর মুখ দেখেনি এসব তদন্ত প্রতিবেদন। কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতিবেদন জমা না দেয়ার ঘটনায় ৪০ কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়েছে। জড়িতদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষা গবেষকরা।


শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরের মূল কাজ স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার আর্থিক বিষয় নিরীক্ষা করা এবং বিভিন্ন অনিয়মের তদন্ত করা। স্বৈরাচারী সরকারের আমলে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা প্রায় ৪ হাজার নিরীক্ষা ও তদন্ত করেন। এর মধ্যে ৩ হাজার অনলাইনে এবং বাকি তদন্ত সরেজমিনে করা হয়েছে। ৫ থেকে ১০ বছর আগে এসব তদন্ত করা হলেও প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়নি।


পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরের পরিচালক অধ্যাপক মো. আফলাতুন বলেন, কিছু পরিদর্শক এখানে ছিলেন, যারা প্রতিবেদন জমা না দিয়ে বদলি হয়ে চলে গেছেন। তাদের চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠি দেয়ার পর কিছু প্রতিবেদন হালনাগাদ করে জমা দেয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।


এসব কর্মকর্তার অনেকেই এখন এই দফতরে নেই। বদলি হয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে গেছেন। তবে ডিআইএ কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের চিঠি দেয়া হচ্ছে। অধ্যাপক মো. আফলাতুন আরও বলেন, ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালের অনেক প্রতিবেদন তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর পেয়েছেন, যেগুলো জমা দেয়া হয়নি। এসব প্রতিবেদন নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে। ফাইনাল রিপোর্ট দেয়ারও চেষ্টা করা হচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ফোন করে জানানো হচ্ছে, একটার পর একটা অডিট হয়েছে, কিন্তু রিপোর্ট লেখার সময় পাননি অডিটররা। বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে অডিট করলেও তারা প্রতিবেদন জমা দেননি।


অভিযোগ রয়েছে, কর্মকর্তারা অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে এসব তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেননি। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষা গবেষকরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নূর-ই-আলম সিদ্দিকী বলেন, এখানে অবশ্যই লেনদেন হয়েছে এবং সেটা বড় অঙ্কের। যদি তা না হতো, তাহলে তদন্ত প্রতিবেদনগুলো সময়মতো জমা পড়ত এবং যারা দোষী, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হতো। যেহেতু তা হয়নি, তাই এতদিন ধরে মানুষের যে ধারণা ছিল, সেটাই আবার প্রমাণিত হয়েছে।


প্রতিবেদন জমা না দেয়ায় ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক-কর্মকর্তাদের। তাদের দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব প্রতিবেদন জমা দেয়া হোক।


শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষা ও অনিয়ম তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত এই প্রতিষ্ঠানের অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। তদন্ত হয়, প্রমাণও পাওয়া যায়; কিন্তু তেমন কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে সবার আগে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম তদন্তে গতি নেই, ১০ বছরেও জমা হয়নি ৪ হাজার প্রতিবেদন | সময় নিউজ