লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৩

ব্রেকআপের পর প্রাক্তন মানুষটিকে মন থেকে সরিয়ে ফেলতে কতটা সময় লাগে? কয়েক মাস, এক বছর, নাকি তার চেয়েও বেশি? এর কোনো নির্দিষ্ট উত্তর নেই। তবে নতুন এক গবেষণা বলছে, দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর প্রাক্তনের প্রতি তৈরি হওয়া মানসিক বন্ধন প্রত্যাশার চেয়ে অনেক ধীরে দুর্বল হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের গবেষক জিয়া ওয়াই. চং ও আর. ক্রিস ফ্রেলি এ নিয়ে গবেষণা করেছেন। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে Social Psychological and Personality Science জার্নালে। গবেষণার মূল সংস্করণে ৩২০ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। তাঁদের অতীতের অন্তত দুই বছর স্থায়ী রোমান্টিক সম্পর্ক ছিল, যা পরবর্তী সময়ে ভেঙে যায়।
গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের আগের সম্পর্ক গড়ে প্রায় ৪ দশমিক ৬ বছর স্থায়ী হয়েছিল। গবেষণার সময় তাঁদের বিচ্ছেদের পর গড়ে প্রায় পাঁচ বছর পেরিয়ে গিয়েছিল। গবেষকেরা জানতে চেয়েছেন—সময়ের সঙ্গে প্রাক্তন সঙ্গীর প্রতি মানুষের আবেগীয় সংযুক্তি কীভাবে পরিবর্তিত হয় এবং কখন সেই মানুষটি মানসিকভাবে একজন ‘অপরিচিত’ মানুষের কাছাকাছি হয়ে ওঠেন।
এ জন্য অংশগ্রহণকারীদের প্রাক্তন সঙ্গীর প্রতি আবেগীয় টান, নিরাপত্তার অনুভূতি ও মানসিক সংযুক্তি পরিমাপ করা হয়। একই সঙ্গে একজন সম্পূর্ণ অপরিচিত ব্যক্তির প্রতি তাদের সংযুক্তির মাত্রার সঙ্গেও তুলনা করা হয়।
গবেষণার সবচেয়ে আলোচিত ফল হলো—প্রাক্তনের প্রতি মানসিক সংযুক্তি একেবারে দ্রুত মিলিয়ে যায় না। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, এই সংযুক্তি অর্ধেক কমতে গড়ে ৪ দশমিক ১৮ বছর সময় লাগে। আর একই গতিতে সংযুক্তি কমতে থাকলে সেটি প্রায় পুরোপুরি মিলিয়ে যেতে প্রায় ৮ বছর সময় লাগতে পারে।
তবে এখানে ‘প্রাক্তনকে ভুলে যাওয়া’ কথাটির অর্থ সতর্কভাবে বোঝা জরুরি। এর অর্থ এই নয় যে আট বছর পর সেই মানুষটির কথা আর কখনো মনে পড়বে না। বরং গবেষণাটি মূলত প্রাক্তনের প্রতি মানসিক বা আবেগীয় সংযুক্তি কতটা সময় ধরে টিকে থাকে, সেটি নিয়ে। অর্থাৎ কারও কথা মনে পড়তে পারে, পুরোনো স্মৃতিও থাকতে পারে, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই ব্যক্তির প্রতি আগের মতো আবেগীয় নির্ভরতা বা টান কমে যেতে পারে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, সবার ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া একই গতিতে ঘটে না। প্রাক্তনের সঙ্গে বিচ্ছেদের পরও নিয়মিত যোগাযোগ থাকলে মানসিক বন্ধন দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। ব্যক্তির অ্যাটাচমেন্ট বা সংযুক্তির ধরনও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে উদ্বিগ্ন ধরনের অ্যাটাচমেন্টের সঙ্গে প্রাক্তনের প্রতি দীর্ঘস্থায়ী মানসিক সংযুক্তির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, বিচ্ছেদের পর নতুন সম্পর্কে জড়ানো মানেই যে পুরোনো সম্পর্কের আবেগ দ্রুত শেষ হয়ে যাবে—গবেষণায় এমন সরল সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। নতুন সম্পর্কে যাওয়ার পরও কিছু মানুষের মধ্যে প্রাক্তনের প্রতি মানসিক সংযুক্তি থেকে যেতে পারে। এমনকি গবেষণায় অংশ নেওয়া অনেকেই নতুন সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন, তবু তাঁদের প্রাক্তনের প্রতি সংযুক্তি অপরিচিত মানুষের তুলনায় বেশি ছিল।
গবেষকদের এই ফলাফল মূলত বোঝায়, দীর্ঘদিনের সম্পর্ক শেষ হওয়া মানে মানসিক বন্ধনও সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে যাওয়া নয়। একটি সম্পর্কের সঙ্গে তৈরি হওয়া অভ্যাস, নিরাপত্তাবোধ, স্মৃতি ও আবেগ ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়। কারও ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন তুলনামূলক দ্রুত হতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।
তাই ব্রেকআপের কয়েক বছর পরও যদি কারও প্রাক্তনের কথা মনে পড়ে, সেটিকে অস্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়ার কারণ নেই। গবেষণাটি বরং দেখায়, মানুষের আবেগীয় সংযুক্তি সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়—এবং এই পরিবর্তনের কোনো একক সময়সীমা সবার জন্য প্রযোজ্য নয়।

