বাংলাদেশ

ফের সক্রিয় চোর চক্র, আতঙ্কে রাজধানীবাসী

স্বপন আহমেদ

প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৩

মোটরসাইকেল চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে চোর। ছবি: সিসিটিভির ফুটেজ থেকে নেয়া

রাজধানীতে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠছে চোর চক্র। এক থেকে দুই মিনিটের মধ্যেই চুরি হয়ে যাচ্ছে গাড়ি ও মোটরসাইকেল। এসব ঘটনায় আতঙ্ক বাড়ছে নগরবাসীর মধ্যে। পুলিশ বলছে, পুরনো অপরাধীদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন চক্র। তবে প্রত্যেককেই আইনের আওতায় আনা হবে।


রাজধানীর ভাটারার জোয়ার সাহারা খাঁ পাড়া এলাকা। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তি চারতলা একটি ভবনের গ্যারেজে প্রবেশ করেন। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) ভোরে মাত্র দুই মিনিটের মধ্যেই গ্যারেজে রাখা করোলা এক্সিও গাড়িটি নিয়ে উধাও হয়ে যান ওই ব্যক্তি।


ভুক্তভোগী বলেন, ‘আমি এসে দেখি গাড়ি নেই। আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখি। সেখানে দেখা যায়, একজন লোক এসে সহজেই গাড়িতে ওঠে, গাড়ি স্টার্ট দিয়ে ব্যাক করে নিয়ে চলে যায়।’


গত ২ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদ সলিমুল্লাহ রোডের একটি মসজিদের পাশে মোটরসাইকেল রেখে আসরের নামাজ আদায় করতে যান বেসরকারি চাকরিজীবী আবদুল্লাহ নজর। নামাজ শেষে বের হয়ে দেখেন, মোটরসাইকেলটি নেই। একই কায়দায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় অফিসের সামনে থেকে চুরি হয় বেসরকারি চাকরিজীবী তামিম চৌধুরীর ইয়ামাহা মোটরসাইকেল। ঘটনাটি ঘটে মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডে।


এ তো গেল বাইক চুরির ঘটনা। চোরদের হাত থেকে রেহাই নেই বাসাবাড়িও। রাজধানীর মধুবাগ এলাকার একটি তিনতলা বাসায় প্রবেশ করে এক কিশোর। পাঁচ থেকে সাত মিনিট পর ব্যাগ হাতে তাকে বের হতে দেখা যায়। ততক্ষণে বাসায় লাগানো তিনটি এসির সংযোগ পাইপ চুরি হয়ে গেছে।


ভুক্তভোগী বলেন, ‘আমার তিনটি এসির পাইপ চুরি হয়েছে। এসিতে গ্যাস যাওয়ার যে তামার পাইপ থাকে, সেটি চুরির প্রবণতা এখন অনেক বেড়েছে। এ বিষয়ে এলাকায় অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, মসজিদসহ অনেকের বাসার এসির পাইপও চুরি করে নিয়ে গেছে চোরেরা। এক থেকে দেড় ফুট পাইপের দামই প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা।’


গত ৩০ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে মোহাম্মদপুরের আসাদগেটের সেন্ট খ্রিস্ট্রিনা চার্চ থেকে চুরি করা হয় ৭০ কেজি ওজনের একটি তামার ঘণ্টা। পরে পুলিশি তৎপরতার ভয়ে ঘণ্টাটি ময়লার ভাগাড়ে ফেলে যায় চোর চক্র। তবে চুরির এমন ঘটনায় উদ্বেগের পাশাপাশি আতঙ্ক ছড়িয়েছে জনমনে।


সাধারণ মানুষ বলছেন, ‘মাদকের জন্য টাকা না থাকলে অনেকে ঘর থেকেই চুরি শুরু করে, পরে ধীরে ধীরে ঘরের বাইরেও চুরি করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একটু সক্রিয় হলে এ ধরনের অপরাধ করে কেউ পার পাবে না।’


ডিএমপির তথ্য বলছে, এ বছরের প্রথম আট মাসে রাজধানীতে চুরির ঘটনায় অভিযোগ পড়েছে ৭৭৬টি। প্রতিটি ঘটনাতেই অপরাধী শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


ডিএমপির মুখপাত্র মো. আকতার হোসেন বলেন, ‘কোনো কোনো ঘটনায় আমরা পুরনো চক্রের সদস্যদের পাই। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায়, নতুন কেউ তাদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। গাড়ি চুরিসহ বিভিন্ন ধরনের চুরির সঙ্গে সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত রয়েছে। তবে প্রতিনিয়তই এসব চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করা হচ্ছে এবং চুরি যাওয়া গাড়িও উদ্ধার করা হচ্ছে।’


চুরিসহ যেকোনো অপরাধ ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতার পাশাপাশি জনগণকেও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ডিএমপি।

ফের সক্রিয় চোর চক্র, আতঙ্কে রাজধানীবাসী | সময় নিউজ