আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:০৭

ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তেহরানকে দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। তা না হলে ইরানের জন্য গুরুতর পরিণতি অপেক্ষা করছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) টেক্সাসের ডেন্টনে পিটারবিল্ট মোটরসের একটি কারখানায় বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেন, চলমান সংঘাত ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হবে। ইরানের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তাদের হয় খুব সঠিক ও বুদ্ধিমানের মতো কিছু করতে হবে, নয়তো তারা আর বেশিদিন টিকে থাকবে না।’
সমঝোতায় পৌঁছানোর পর ইরান সেটি মেনে চলবে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, কোনো কোম্পানির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি হলে সেই চুক্তি মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত থাকে। কিন্তু ইরানের সঙ্গে চুক্তি করলে তারা সেটি মেনে নাও চলতে পারে।
হুমকির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ৯ হাজার মার্কিন সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। এর মধ্যে আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে আরও হামলা চালানো হতে পারে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, কয়েকটি যুদ্ধজাহাজে করে ওই ৯ হাজার সেনাকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হচ্ছে। রওনা হওয়া জাহাজগুলোতে ৭ হাজারের বেশি নাবিক ও ২ হাজার মেরিন সেনা রয়েছে।
নৌবহরে রয়েছে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ। সম্প্রতি এ বহরের সঙ্গে ইউএসএস চোসিন নামের একটি ক্রুজার মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া রয়েছে ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ড অ্যাম্ফিবিয়াস রেডিনেস গ্রুপ। এ বহরে উভচর অবতরণকারী জাহাজ ইউএসএস জন পি মার্থা ও ইউএসএস অ্যাঙ্কোরেজ রয়েছে।
এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, এর ফলে অক্টোবরের শেষ নাগাদ ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন থাকতে পারে।
ইতিমধ্যে ইরান যুদ্ধ অবসানে তেহরানের দেওয়া প্রস্তাবের বিপরীতে ওয়াশিংটনের জবাব পাওয়ার কথা জানিয়েছে ইরান। এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানকে অবশ্যই একটি শান্তিচুক্তিতে সই করতে হবে, অন্যথায় ‘তাদের কোনো অস্তিত্বই থাকবে না’।
অথচ মাত্র কয়েক দিন আগেই ইরানের দেওয়া শান্তির প্রস্তাব প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে চুক্তি কার্যকর করার সময়সীমা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে বলে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ইঙ্গিত দেন ইরানি কর্মকর্তারা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাত দিয়ে সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানান, মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মার্কিন জবাব প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছে পেশ করেছেন।

