আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৯

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
ট্রাম্প ইরানে বড় ধরনের হামলা ফের শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রশাসনের এসব তৎপরতায় সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার বিকল্প উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অন্যদিকে যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায়ও ফের অচলাবস্থায় পড়েছে।
ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ নিয়ে এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে এবং এসব তৎপরতার সম্ভাব্য অর্থ কী হতে তা তুলে ধরা হলো।
স্থানীয় সময় শুক্রবার কয়েক ঘণ্টাব্যাপী ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। হোয়াইট হাউস থেকে বৈঠকটির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়া হয়নি।
তিন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ইরান এবং ইয়েমেনে সৌদি আরব-হুতি সংঘাত নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এক মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, বৈঠকে কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে অথবা অন্তত কয়েকটি বিষয় নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা হয়েছে। তবে কী সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস কিছু জানায়নি।
বৈঠকের স্থানটিও এর গুরুত্ব বাড়িয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে ইসরাইল ইরানে যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিন আগে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের একই ধরনের একটি বৈঠক ক্যাম্প ডেভিডে হয়েছিল।
অবশ্য ওই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে—এমন অর্থ এই বৈঠক থেকে পাওয়া যায় না। তবে শুক্রবারের বৈঠকটি এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর।
মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের হাতে থাকা সামরিক শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াচ্ছে পেন্টাগন। ‘ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট’ ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ এবং ‘ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ড’ অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হচ্ছে। এসব মোতায়েনের ফলে অতিরিক্ত ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার মার্কিন সেনা এই অঞ্চলে যুক্ত হতে পারে।
তারা ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা বড় মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যোগ দেবে। পরিকল্পিত মোতায়েন যদি একই সময়ে কার্যকর থাকে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ ও দুটি অ্যাম্ফিবিয়াস গ্রুপ থাকবে। এতে মার্কিন সামরিক কমান্ডারদের আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
তবে এসব সামরিক তৎপরতার কিছু অংশ কয়েক মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন বাহিনীকে প্রতিস্থাপনের অংশও হতে পারে। অর্থাৎ এগুলো সরাসরি নতুন কোনো সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি—এমনটা নিশ্চিত নয়।
ট্রাম্প ইচ্ছাকৃতভাবেই ইরান নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে অস্পষ্ট অবস্থান বজায় রাখছেন। টাইম ম্যাগাজিনকে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান গ্রহণযোগ্য কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলে নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে ফের সামরিক অভিযান চালানো ‘হতে পারে’।
গত বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার ঠিক পরপরই যুদ্ধে জয়লাভ সম্ভব হতে পারে। তবে এর আগেও তা ঘটতে পারে বলে জানান তিনি। ইরানকে হার মানার জন্য প্রস্তুত বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে শীর্ষ উপদেষ্টাদের বৈঠকের বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে ট্রাম্প বলেন, আমি যদি আপনাদের বলি, তাহলে সেটা বড় একটি খবর হয়ে যাবে। এরপর তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখতে পাবেন।’
ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনসহ আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা জোরদার করেছে। একই সঙ্গে বাড়তে থাকা মার্কিন নৌ উপস্থিতি শুধু আক্রমণাত্মক সক্ষমতাই নয়, প্রতিরক্ষার ব্যবস্থাও জোরদার করছে।
এই মুহূর্তে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের চেয়ে ওয়াশিংটন সম্ভাব্য বিকল্পগুলো প্রস্তুত করছে বলেই মনে হচ্ছে। সামরিক শক্তি বাড়ানোর মাধ্যমে ট্রাম্প একদিকে আলোচনার টেবিলে বসার জন্য তেহরানকে চাপে রাখার কৌশল নিয়েছেন, অন্যদিকে কূটনীতি ব্যর্থ হলে ফের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতিও রাখতে পারেন।
তবে ক্যাম্প ডেভিডে অস্বাভাবিক বৈঠক, কূটনৈতিক অচলাবস্থা, বাড়তে থাকা অর্থনৈতিক চাপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের দিকে হাজার হাজার অতিরিক্ত মার্কিন সেনা পাঠানোর সমন্বিত চিত্রে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা ক্রমেই জোরদার হয়ে উঠছে বলে মনে করা হচ্ছে।
শেষ পর্যন্ত এই সামরিক শক্তি ব্যবহার করা হবে, নাকি এর উপস্থিতিই একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে সহায়তা করবে—সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ

