আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৫৬

বিজ্ঞানীরা ভারত মহাসাগরের প্রত্যন্ত দ্বীপে লুকিয়ে থাকা পেঙ্গুইনের নতুন একটি প্রজাতি আবিষ্কার করেছেন। ছবি: সংগৃহীত
ভারত মহাসাগরের প্রত্যন্ত কেরগেলেন দ্বীপপুঞ্জে নতুন এক প্রজাতির পেঙ্গুইনের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। জিনগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে শনাক্ত হওয়া এই পেঙ্গুইন প্রজাতির নাম দেওয়া হয়েছে সাউথইস্টার্ন জেন্টু পেঙ্গুইন, যার বৈজ্ঞানিক নাম পাইগোস্কেলিস কারগুয়েলেনসিস।
বিজ্ঞানীদের দাবি, এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর এবারই প্রথম নতুন কোনো পেঙ্গুইন প্রজাতি আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত করা হলো। গবেষণাটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী কমিউনিকেশনস বায়োলজিতে প্রকাশিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক এই গবেষক দলে যুক্তরাষ্ট্র, চিলিসহ বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানী ও পেঙ্গুইন বিশেষজ্ঞরা ছিলেন।
এতদিন জেন্টু পেঙ্গুইনকে একটি প্রজাতি হিসেবেই বিবেচনা করা হতো। নতুন গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, জেন্টু পেঙ্গুইনের মধ্যে চারটি স্বতন্ত্র বিবর্তনীয় গোষ্ঠী রয়েছে। এগুলো হলো নর্দার্ন জেন্টু, সাউদার্ন জেন্টু, ইস্টার্ন জেন্টু এবং সদ্য শনাক্ত সাউথইস্টার্ন জেন্টু।
নতুন প্রজাতিটি কেরগেলেন দ্বীপপুঞ্জে বসবাস করে। বাহ্যিক গঠনে এটি অন্যান্য জেন্টু পেঙ্গুইনের সঙ্গে প্রায় একই রকম হওয়ায় এতদিন আলাদা প্রজাতি হিসেবে শনাক্ত করা যায়নি। জিনগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণের পর এর স্বতন্ত্র পরিচয় স্পষ্ট হয়। বিজ্ঞানীরা এ ধরনের প্রজাতিকে ‘ক্রিপটিক প্রজাতি’ বলে থাকেন।
গবেষণায় ১০টি প্রজনন কলোনি থেকে সংগ্রহ করা ৬৪টি পেঙ্গুইনের সম্পূর্ণ জিনোমের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি পেঙ্গুইনগুলোর শারীরিক বৈশিষ্ট্য, ডাক, প্রজননের সময়, খাদ্যাভ্যাস ও খাবার সংগ্রহের আচরণও তুলনা করেছেন গবেষকরা।
গবেষকদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই চারটি গোষ্ঠী প্রায় ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ বছর আগে পৃথকভাবে বিবর্তিত হতে শুরু করে। প্রত্যন্ত দ্বীপগুলোর ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা এবং দক্ষিণ মহাসাগরের ‘অ্যান্টার্কটিক পোলার ফ্রন্ট’ তাদের পৃথক বিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
নতুন প্রজাতির সন্ধান পাওয়ার পাশাপাশি এর ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষণায় জলবায়ু পরিবর্তনের বিভিন্ন পরিস্থিতি বিবেচনা করে আবাসস্থলের ভবিষ্যৎ পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সাব-অ্যান্টার্কটিক অঞ্চলের তিনটি জেন্টু প্রজাতির বর্তমান আবাসস্থল ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে পারে। বিপরীতে অ্যান্টার্কটিক অঞ্চলে বসবাসকারী সাউদার্ন জেন্টু পেঙ্গুইনের বিস্তৃতি কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কেরগেলেন দ্বীপপুঞ্জ স্থায়ীভাবে বসবাসকারী ভূখণ্ড থেকে প্রায় ২ হাজার মাইল দূরে অবস্থিত। দুর্গম এই অবস্থান এবং পেঙ্গুইনটির অন্যান্য জেন্টু প্রজাতির সঙ্গে প্রায় একই রকম চেহারা থাকার কারণে এতদিন এর স্বতন্ত্র পরিচয় বিজ্ঞানীদের নজর এড়িয়ে যায় বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
গবেষকরা জানিয়েছেন, ১৯২১ সালের পর নতুন কোনো পেঙ্গুইন প্রজাতি নামকরণের এটিই প্রথম ঘটনা। ফলে নতুন সাউথইস্টার্ন জেন্টু পেঙ্গুইনের শনাক্তকরণ পেঙ্গুইনের বিবর্তন ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: সায়েন্স ডেইলি ও ইউসি বার্কলে নিউজ

