আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৮

আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম ৭০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ছবি: রয়টার্স
বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমাতে জরুরি মজুত থেকে ডিজেল ছাড়তে জার্মানি ও ফ্রান্সকে চাপ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের এ আহ্বানে ইউরোপীয় মিত্ররা সাড়া না দিলে মার্কিন ডিজেল রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত তিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর দিয়েছে।
চলতি সপ্তাহে কূটনৈতিক ও জ্বালানি–সংক্রান্ত বিভিন্ন চ্যানেলে এই দাবি জানানো হয়েছে। এর জেরে জ্বালানি নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বর্তমানে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি এবং নভেম্বরে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশটিতে ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আগামী ছয় মাসে জরুরি মজুত থেকে প্রায় ১২ কোটি ব্যারেল ডিজেল ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইউরোপীয় একটি সূত্র এবং ২০২৫ সালের মে মাসের ইউরোস্ট্যাটের তথ্যের ভিত্তিতে করা হিসাব অনুযায়ী, এই পরিমাণ ইইউর বর্তমান জরুরি তেল ও ডিজেল মজুতের ৪০ শতাংশেরও বেশি।
এদিকে ইউরোপীয় কমিশনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য কমিশন এবং ২৭টি সদস্য দেশের সমন্বয়ে গঠিত ইইউর এনার্জি টাস্কফোর্স শুক্রবার একটি জরুরি বৈঠকে অংশ নেবে।
সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন কমাতে ইউরোপীয় মিত্রদের তাদের কৌশলগত ডিজেল মজুত থেকে জ্বালানি বাজারে ছাড়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে এই বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে।
ইইউর কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, রফতানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে ইউরোপের অর্থনীতির ওপর ‘অত্যন্ত গুরুতর প্রভাব’ পড়তে পারে। ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা এ বিষয়ে ভারসাম্যপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজবে।
আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম ৭০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। বর্তমানে তা গ্যালনপ্রতি গড়ে ৬.৩৯ ডলারে পৌঁছেছে।

