বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৫

বাংলা ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে আলাদা একটি অধ্যায়ের নাম জেমস। ভক্তদের কাছে তিনি ‘গুরু’, আর সংগীতাঙ্গনে পরিচিত ‘নগরবাউল’ নামে। আজ ২ অক্টোবর এই কিংবদন্তি শিল্পীর জন্মদিন। ১৯৬৪ সালের এই দিনে নওগাঁয় জন্মগ্রহণ করেন ফারুক মাহফুজ আনাম জেমস। বেড়ে ওঠা ও সংগীতজীবনের বড় একটি অধ্যায় কেটেছে চট্টগ্রামে।
ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি ছিল তার গভীর আকর্ষণ। পরিবারের আপত্তি উপেক্ষা করে কৈশোরেই সংগীতের পথে পা বাড়ান তিনি। চট্টগ্রামের আজিজ বোর্ডিংয়ে থাকার সময় গানের চর্চা ও পরিবেশনার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করতে শুরু করেন।
সত্তরের দশকের শেষদিকে ‘ফিলিংস’ ব্যান্ডের মাধ্যমে তার সংগীতযাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ব্যান্ডটির নাম বদলে হয় ‘নগরবাউল’। ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত ‘স্টেশন রোড’ অ্যালবামটি জেমস ও ফিলিংসের ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে ওঠে। এরপর ‘জেল থেকে বলছি’, ‘নগর বাউল’, ‘লেইস ফিতা লেইস’, ‘কালেকশন অব ফিলিংস’সহ একাধিক অ্যালবামের মাধ্যমে তিনি শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে যান।
জেমসের গায়কির অন্যতম বৈশিষ্ট্য তার স্বতন্ত্র কণ্ঠ, পরিবেশনার ধরন এবং রকসংগীতে নিজস্ব মেজাজ তৈরি করার ক্ষমতা। ‘তারায় তারায়’, ‘মা’, ‘দুষ্টু ছেলের দল’, ‘গুরু ঘর বানাইলা কী দিয়া’, ‘পাগলা হাওয়া’, ‘বাংলাদেশ’সহ তার বহু গান শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
শুধু বাংলাদেশেই নয়, দেশের বাইরেও জেমসের গানের জনপ্রিয়তা ছড়িয়েছে। বলিউডের চলচ্চিত্রেও প্লেব্যাক করেছেন তিনি। ‘গ্যাংস্টার’ সিনেমার ‘ভিগি ভিগি’ গানটি তাঁকে ভারতীয় হিন্দিভাষী শ্রোতাদের কাছেও ব্যাপকভাবে পরিচিত করে। পরবর্তী সময়ে ‘ও লামহে’, ‘লাইফ ইন এ মেট্রো’সহ আরও কয়েকটি চলচ্চিত্রে তাঁর গান ব্যবহৃত হয়েছে।
দীর্ঘ সংগীতজীবনে পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা। তবে পুরস্কারের চেয়েও ভক্তদের ভালোবাসাকেই নিজের বড় অর্জন হিসেবে দেখেন জেমস। চার দশকের ক্যারিয়ার নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, মানুষের ভালোবাসায় তিনি মুগ্ধ।
দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে বাংলা রকসংগীতে সক্রিয় থাকা জেমস আজও নতুন-পুরোনো প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছে সমানভাবে পরিচিত। সময় বদলেছে, সংগীতের ধরন বদলেছে, বদলেছে শ্রোতাদের রুচিও। কিন্তু জেমসের কণ্ঠে গান শুনলে এখনও অসংখ্য শ্রোতার মনে ফিরে আসে তারুণ্যের স্মৃতি।

