সেলিয়া সুলাতানা
প্রকাশ: ২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৪

শিল্পখাতকে উৎপাদনে ফেরানোর পাশাপাশি ২৫ লাখ কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে ৬২ হাজার কোটি টাকার ১৫টি স্কিম চালু করা হলেও প্রত্যাশিত সাড়া মিলছে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৫টি স্কিমে এখন পর্যন্ত মোট ১১ হাজার ২৭২ কোটি টাকা বিতরণ ও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর মধ্যে বিতরণ হয়েছে ৬ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। আর ৪ হাজার ৫৯১ কোটি টাকা রয়েছে বিতরণ প্রক্রিয়ায়।
এর মধ্যে প্রিফাইন্যান্সিং, ক্রেডিট পুনঃঅর্থায়নসহ কয়েকটি স্কিমে তুলনামূলক ভালো অগ্রগতি থাকলেও বন্ধ শিল্প, সিএমএসই, স্টার্টআপ, কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন এবং রফতানি বহুমুখীকরণ খাতে আবেদন ও ঋণ বিতরণ; দুটিই কম।
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. শহীদুল জাহিদ বলেন, ‘এতে কিছুটা ঝামেলা থাকতে পারে। আবার এ খাত থেকে খুব বেশি মুনাফাও আসে না। তবে রাষ্ট্র ও অর্থনীতির প্রতি দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে প্রচলিত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সবারই এসএমই খাতে বিনিয়োগ করা উচিত।’
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এসব খাতে আবেদন কম হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘ঋণ বিতরণ কম হয়েছে, তবে এ নিয়ে আমরা হতাশ নই। কেন গতিটা কম হয়েছে, সেটি আমরা খতিয়ে দেখব এবং কীভাবে তা বাড়ানো যায়, সে উদ্যোগ নেব। সারাদেশে ব্যাংকের ১০ থেকে ১২ হাজার শাখা রয়েছে। আমাদের নীতি হবে; গ্রাহক ব্যাংকের কাছে যাবে না, বরং ব্যাংকই গ্রাহকের কাছে পৌঁছাবে।’
এদিকে, উদ্যোক্তাদের সবচেয়ে বেশি আগ্রহের বন্ধ শিল্প ও সেবাখাতে ২০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে মাত্র ৮০৮ কোটি টাকার জন্য আবেদন করেছেন উদ্যোক্তারা। এর মধ্যে বিতরণ হয়েছে ৫০ কোটি টাকা। বাকি ৭৫৮ কোটি টাকা বিবেচনা ও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, জ্বালানি ও ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ঋণ গ্রহণের হার কমেছে। বিজিএমইএর ভাইস প্রেসিডেন্ট শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী বলেন, ‘পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা এবং বন্দরের যে অদক্ষতা নিয়ে আমরা সবসময় কথা বলি, এই তিনটি বিষয় ঠিক করার পাশাপাশি যদি আমাকে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দেয়া হয়, তাহলে পুরো ব্যবস্থাটাই সমন্বিতভাবে কাজ করবে। কিন্তু এর একটি দেয়া হলো, আর বাকি তিনটি নিশ্চিত করা হলো না; তাহলে শেষ পর্যন্ত এই টাকাটিও খেলাপি হয়ে যেতে পারে।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ৬০ হাজার কোটি টাকার এই ঋণ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানো। এখন উদ্যোক্তাদের অনাগ্রহ কাটিয়ে এসব অর্থায়ন কতটা কার্যকর করা যায়, সেটিই প্রশ্ন।

