অর্থ-বাণিজ্য

সংকট মোকাবিলায় দেশজুড়ে ৩শ গ্যাসকূপ খনন-পুনঃখনন করছে সরকার

ইকরামুল কবির

প্রকাশ: ৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২১

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশে ৩০০ গ্যাসকূপ খনন ও পুনঃখননের মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। ফাইল ছবি

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশে ৩০০ গ্যাসকূপ খনন ও পুনঃখননের মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ৫০ বছর জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।


দুই ধাপে ৩০০টি গ্যাসকূপ খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ১৫০টি কূপের পরিকল্পনা রয়েছে। সিলেট গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি এরই মধ্যে এসব কূপের মধ্যে ১৫টির খনন ও পুনঃখননের কাজ শুরু করেছে।


দেশজুড়ে কূপ খননের মহাপরিকল্পনার মধ্যেই সিলেট গ্যাস ফিল্ড কোম্পানির রশিদপুর-১৩-তে চলছে খননকাজ। ডুপিটিলা-১, সিলেট-১৩ ও হরারগঞ্জ-১-এর মতো নতুন অনুসন্ধান কূপেও চলছে কাজ। একই সঙ্গে পুরনো কূপ পুনঃখনন করে বাড়ানো হচ্ছে উৎপাদন।


বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী ৫০ বছর দেশের জ্বালানি খাত নিয়ে আর উদ্বেগ থাকবে না। শাবিপ্রবির পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এম ফরহাদ হাওলাদার বলেন, ‘এই টার্গেট পূরণ করা হলে, অর্থাৎ ১৫০ ও ৩০০টির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং ২০৩৫ সালের লক্ষ্যমাত্রা শেষ করা গেলে, আমাদের মনে হয় আগামী ৫০ বছর পর্যন্ত নিজেদের জ্বালানি চাহিদা নিজেরাই পূরণ করতে পারব।’


সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘এরই মধ্যে সিলেট গ্যাস ফিল্ডে কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের কাজ এগিয়ে চলছে। এরই মধ্যে আমাদের আটটি ওয়ার্কওভার শেষ হয়েছে এবং পাঁচটি নতুন কূপ খননের কাজও শেষ হয়েছে।’


২০৩১ সালের মধ্যে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সিলেট গ্যাসফিল্ড কোম্পানি নতুন নতুন কূপ খননের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় ডুপিটিলা-১ নম্বর গ্যাস কূপ খননের আনুষ্ঠানিকতাও এরই মধ্যে সম্পন্ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে চালু এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া গ্যাসকূপের আশপাশে খননের পরিকল্পনায় আশানুরূপ ফল পাওয়া যেতে পারে। বিস্ফোরণে পরিত্যক্ত টেংরাটিলা গ্যাস ক্ষেত্রে ২ টিসিএফ বা ২ লাখ কোটি ঘনফুট গ্যাস মজুত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।


ড. এম ফরহাদ হাওলাদার বলেন, ‘সিলেট গ্যাস ফিল্ডে প্রয়োজনীয় সব ধরনের অবকাঠামো রয়েছে। সেখানকার সব কূপ থেকে যদি যথাযথভাবে গ্যাস উত্তোলন করা যায়, তাহলে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।’


ইঞ্জিনিয়ার মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘আগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখানে যে পরিমাণ গ্যাসের মজুত রয়েছে, আমাদের ধারণা এখনো সেখানে দুই টিসিএফের বেশি গ্যাস রয়েছে।’


এদিকে, বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের ২৬টি গ্যাস ব্লকের পাশেই মিয়ানমার ও ভারত মিলে কূপ খননে ৮০ টিসিএফ বা ৮০ লাখ কোটি ঘনফুট গ্যাস আবিষ্কার করেছে। সেখানে কূপ খননে প্রচুর সম্ভাবনা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।


ড. এম ফরহাদ হাওলাদার বলেন, ‘এখানে প্রয়োজন শক্তিশালী উদ্যোগ। প্রয়োজনে বিদ্যমান চুক্তির কিছু শর্তে ছাড় দিয়ে বিডিং বাড়াতে হবে এবং নতুন করে অনুসন্ধান কার্যক্রমে যেতে হবে।’


সিলেট গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি বর্তমানে ১৭টি কূপ থেকে দৈনিক ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করছে। ২০৩১ সালে তা ২৬০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত করার আশাবাদী কর্তৃপক্ষ।

সংকট মোকাবিলায় দেশজুড়ে ৩শ গ্যাসকূপ খনন-পুনঃখনন করছে সরকার | সময় নিউজ