বাংলাদেশ

লবণাক্ত পানির ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে উপকূলের মানুষ

আবু সাঈদ নিশান

প্রকাশ: ৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৮

লবণাক্ত পানির ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে উপকূলের মানুষ

সুপেয় পানির অভাব আর লবণাক্ত পানির ব্যবহারে উপকূলে বাড়ছে নানা রোগ, হুমকিতে পড়েছে জনস্বাস্থ্য। ছবি ভিডিও থেকে নেয়া

পানির অপর নাম জীবন হলেও, এই পানির কারণেই ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে উপকূলবাসীর জীবন। খুলনার কয়রা ও আশাশুনি উপজেলা। সুপেয় পানির সংকট এখানকার নিত্যদিনের গল্প। দূর-দূরান্ত থেকে পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা গেলেও চরম ভোগান্তির কবলে উপকূলের নারীরা।

 

সকাল-বিকেল দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে পানি সংগ্রহ করেন নারীরা। রান্না, খাবার আর দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য পানির চাহিদা মেটাতে এই ছুটে চলার যেন শেষ নাই।

 

শুধু তাই নয়। দুর্ভোগ সয়ে যে পানিটুকু সংগ্রহ করা হয়। তাও যেন বিষ। অতিরিক্ত লবণযুক্ত এই পানি পানে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।

 

আইসিডিডিআরবি'র গবেষণার প্রাথমিক ফল বলছে, উপকূলের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। কয়রায় ৫৫ শতাংশ ও আশাশুনিতে ২৩ শতাংশ উৎসে লবণাক্ত পানি দিনকে দিন বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছাচ্ছে। 

 

পানির লবণাক্ততায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ছে মানুষের স্বাস্থ্যে। পানির প্রতিক্রিয়ায় বাড়ছে হৃদরোগের ঝুঁকি। জরিপ বলছে, প্রতি পাঁচজনে একজন স্ট্রোকের ঝুঁকিতে আছেন। 

 

আইসিডিডিআরবি’র ইনিশিয়েটিভ ফর ননকমিউনিকেবল ডিজিজেসের প্রধান ড. আলিয়া নাহিদ বলেন, উপকূলীয় এলাকায় পানিতে লবণাক্ততার পরিমাণ ১০ বছরে বহুলাংশে বেড়ে গেছে, এটা আরও বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। কয়রা এবং আশাশুনিতে ৪০ বছরের ওপরের মানুষদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ অনেকবেশি দেখা যাচ্ছে। 

 

অতিরিক্ত লবণ বা সোডিয়াম ক্লোরাইড গ্রহণে শুধু উচ্চ রক্তচাপ নয়। ঝুঁকি বাড়তে পারে অন্যান্য রোগ-ব্যাধিরও। তাই, নিয়মিত পানির মান পরীক্ষা ও নজরদারির তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। 

 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী লবণ পানির স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির কথা তুলে ধরে বলেন, লবণাক্ত পানি কোনো না কোনোভাবে আমাদের খাদ্যচক্রের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে প্রেসার বেড়ে যাবে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি  যেখানে এখন ৫ জনে ১ জন রয়েছে, সেখানে ৩  জনে ১ জন ঝুঁকিতে থাকবে। পাশাপাশি ব্রেন স্ট্রোক এবং কিডনি ফেইলরের ঝুঁকিও বেড়ে যাবে। এছাড়া চর্মরোগ এবং নারীদের প্রজনন সমস্যা দেখা দেবে।  

 

ওয়াটারএইড বাংলাদেশের হেড অব পলিসি অ্যাডভোকেসি অ্যাডভোকেট ফাইয়াজউদ্দিন আহমাদ বলেন, যেকোনো রোগের কারণ অনুসন্ধান করা জরুরি। উপকূলীয় এলাকার মানুষ বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিতে রয়েছে, তাদের বিভিন্ন রোগের কারণ অনুসন্ধান ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে সরকারের কার্যকরী পদক্ষেপ জরুরি। 

 

উপকূলীয় এলাকার জনস্বাস্থ্য নিয়ে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। দ্রুত পদক্ষেপের অভাবে অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে বলে মনে করেন তারা। 
 

লবণাক্ত পানির ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে উপকূলের মানুষ | সময় নিউজ