বাংলাদেশ

অর্থ সংকটে বন্ধের পথে চমেকের ভেনম রিসার্চ সেন্টার

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১১

অর্থ সংকটে বন্ধের পথে চমেকের ভেনম রিসার্চ সেন্টার

অর্থ সংকটে বন্ধের ঝুঁকিতে থাকা চমেকের ভেনম রিসার্চ সেন্টার। ছবি: সময় সংবাদ

অর্থ সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) ক্যাম্পাসের একমাত্র অ্যান্টিভেনম গবেষণা কেন্দ্র ‘ভেনম রিসার্চ সেন্টার’। দুই বছর ধরে সরকারি বরাদ্দ না থাকায় কার্যক্রম প্রায় বন্ধ। দ্রুত অর্থ বরাদ্দ না হলে ৩৭০টি বিষধর সাপ নিয়ে বিপাকে পড়তে পারে কেন্দ্রটি।

 

রাসেলস ভাইপার বা চন্দ্রবোড়ার মতো বিষধর সাপের বিষ থেকে অ্যান্টিভেনম তৈরির গবেষণা হতো চমেকের ভেনম রিসার্চ সেন্টারে। মাত্র চারটি সাপ নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই গবেষণাকেন্দ্রে বর্তমানে ১১ প্রজাতির প্রায় ৩৭০টি সাপ রয়েছে। এর মধ্যে রাসেলস ভাইপার, পদ্মগোখরা, খৈয়া গোখরা, কালকেউটে ও শঙ্খিনীসহ বিভিন্ন প্রজাতি রয়েছে। গবেষণার মাধ্যমে তৈরি অ্যান্টিবডি প্রাণীর শরীরে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করেও সফলতা পাওয়া গেছে।

 

ভেনম রিসার্চ সেন্টারের সহকারী গবেষক আব্দুল আওয়াল জানান, অর্থ সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে চমেক ক্যাম্পাসে যাত্রা শুরু করা একমাত্র অ্যান্টিভেনম গবেষণা কেন্দ্র। গত দুই বছর ধরে সরকারি বরাদ্দ না থাকায় কার্যক্রম প্রায় বন্ধ। ইতোমধ্যেই বন্ধ করা হয়েছে ল্যাব পরীক্ষা, ডাটা বিশ্লেষণ ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল।

 

অর্থায়ন বন্ধ থাকায় বেতন-ভাতা, সাপের খাবার ও গবেষণার উপকরণসহ সব ক্ষেত্রেই সংকট তৈরি হয়েছে। শুধু সাপ নয়, ১ কেজি ৭০০ গ্রাম সাপের বিষের কী হবে, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। বর্তমানে ধারদেনা করে কোনোভাবে কয়েকশ বিষধর সাপকে বাঁচিয়ে রাখা হলেও দ্রুত অর্থের ব্যবস্থা না হলে কেন্দ্রটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

 

গবেষকরা জানান, দ্রুত অর্থ বরাদ্দ না হলে সাপ মেরে ফেলে বা প্রকৃতিতে ছেড়ে দিয়ে এই ভেনম রিসার্চ সেন্টার বন্ধ করে দেয়া ছাড়া অন্য কোনো পথ খোলা থাকবে না।

 

ভেনম রিসার্চ সেন্টারের সহকারী গবেষক আসির উদ্দীন বলেন, ‘অর্থ সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে কেন্দ্রের সাপগুলোর খাবারে। প্রায় ৩৭০টি সাপের প্রধান খাবার ইঁদুর; যা কেন্দ্রেই পালন করা হয়। গবেষকদের হিসাবে, শুধু সাপের খাবারের পেছনেই মাসে এক থেকে দেড় লাখ টাকার বেশি প্রয়োজন হয়।’

 

গবেষকদের আশঙ্কা, কেন্দ্রটি বন্ধ হলে শুধু কয়েকশ সাপের সংগ্রহই নষ্ট হবে না; বছরের পর বছর ধরে সংগৃহীত ভেনম, গবেষণার তথ্য, নমুনা এবং গবেষকদের অর্জিত অভিজ্ঞতাও হারিয়ে যেতে পারে।

 

জানা গেছে, দেশে প্রতি বছর ৪ লাখ মানুষকে সাপে কাটে। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে সাত হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। দেশে ব্যবহৃত অ্যান্টিভেনম ভারতের। সাপের ভৌগলিক পরিবেশ ও প্রজাতিগত ভিন্নতার কারণে অনেক সময় এসব ওষুধ কাজ করে না।

অর্থ সংকটে বন্ধের পথে চমেকের ভেনম রিসার্চ সেন্টার | সময় নিউজ