খেলা

সিটির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক রায়: ৯০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি আয়ের কারসাজির অভিযোগ

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩১

সিটির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক রায়: ৯০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি আয়ের কারসাজির অভিযোগ

ম্যানচেস্টার সিটির ঘরের মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়াম। ছবি: রয়টার্স

প্রিমিয়ার লিগ নিশ্চিত করেছে যে নয় বছর ধরে আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে ম্যানচেস্টার সিটি দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। ক্লাবটি তাদের আয় অবিশ্বাস্যভাবে ৯০০ মিলিয়ন পাউন্ডেরও (১ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা) বেশি বাড়িয়ে দেখিয়েছিল বলে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

 

এক বিস্ফোরক ঘোষণায় প্রিমিয়ার লিগ জানিয়েছে, একটি স্বাধীন কমিশন সিটিকে বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে 'ভুয়া চুক্তি' করার জন্য দোষী সাব্যস্ত করেছে। এসব চুক্তির মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে আয় বাড়ানো এবং খরচ কম দেখানো হয়েছিল। একই সঙ্গে ক্লাবটি তাদের আর্থিক হিসাবেও ভুল তথ্য দিয়েছিল, যাতে প্রকৃত আর্থিক পরিস্থিতি গোপন থাকে। সঠিক হিসাব প্রকাশ করা হলে প্রিমিয়ার লিগ ও উয়েফার ব্যয়সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে লঙ্ঘন হতো।

 

সিটি খেলোয়াড়দের এবং তৎকালীন কোচ রবার্তো মানচিনির সঙ্গে 'ভুয়া' ইমেজ-রাইটস চুক্তি করার অভিযোগেও দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। এসব চুক্তির উদ্দেশ্য ছিল কৃত্রিমভাবে তাদের আয় বাড়িয়ে দেখানো।

 

ম্যানচেস্টার সিটি জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমা শুক্রবারের (২ অক্টোবর) মধ্যে তারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে। ক্লাবের দাবি, কমিশনের মতামতে আইন, নীতি ও তথ্যের ক্ষেত্রে 'স্পষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভুল' রয়েছে এবং সিদ্ধান্তটি নিরাপদ বা নির্ভরযোগ্য নয়। ক্লাবটির প্রধান নির্বাহী ফেরান সোরিয়ানো কর্মীদের পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত একটি 'প্রিমিয়ার লিগের ষড়যন্ত্র তত্ত্বের' ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

 

স্বাধীন কমিশনের সভাপতিত্বে চলা শাস্তি নির্ধারণের শুনানির পাশাপাশি আপিল প্রক্রিয়াটিও চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রিমিয়ার লিগ যত দ্রুত সম্ভব পুরো বিষয়টির নিষ্পত্তি করতে আগ্রহী।

 

প্রিমিয়ার লিগের প্রধান নির্বাহী রিচার্ড মাস্টার্স এই মামলাটিকে 'প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মামলা' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর ফলে নজিরবিহীন শাস্তি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে পয়েন্ট কেটে নেওয়ার শাস্তিও থাকতে পারে, যার ফলে সিটির অবনমন পর্যন্ত হতে পারে।

 

সিটির অপরাধের ব্যাপকতার কারণে সরাসরি কোনো নজির না থাকলেও, ২০২১-২২ মৌসুম পর্যন্ত সময়ের জন্য লাভ ও স্থায়িত্ব-সংক্রান্ত নিয়ম ভঙ্গ করায় এভারটনের ১০ পয়েন্ট কেটে নেওয়ার ঘটনা একটি তুলনা হিসেবে সামনে এসেছে। এভারটন ১৯.৫ মিলিয়ন পাউন্ডের নিয়মসীমা অতিক্রম করেছিল। প্রিমিয়ার লিগের নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী প্রাথমিক অপরাধের জন্য ছয় পয়েন্ট এবং অতিরিক্ত প্রতি ৫ মিলিয়ন পাউন্ডের জন্য আরও এক পয়েন্ট কাটা হয়েছিল।

 

শুনানিতে সিটির পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়া কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর আচরণ নিয়েও কমিশন কঠোর মন্তব্য করেছে। কমিশন জানিয়েছে, ক্লাবের পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়া বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভিত্তিক সাক্ষীর বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ 'মিথ্যা' ছিল। কমিশনের মতে, কিছু সাক্ষী এমন তথ্য দিয়েছেন যা তারা নিজেরাই সত্য নয় বলে জানতেন এবং এ কারণে তারা অসৎ আচরণ করেছেন।

 

২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত নয় বছরে ৮৩০.৬ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি 'গোপন অর্থায়ন ব্যবস্থা' পরিচালনার জন্য সিটিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ৭০ মিলিয়ন পাউন্ডের খরচ গোপন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

 

এছাড়াও প্রিমিয়ার লিগের তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং সৎভাবে কাজ না করার একাধিক অভিযোগেও ক্লাবটি দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তদন্ত বন্ধ করা এবং তদন্তের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করার জন্য ক্লাবটি ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা করেছে।

 

প্রিমিয়ার লিগ স্বাধীন কমিশনের ৪০ পৃষ্ঠার সম্পাদিত 'মূল সিদ্ধান্ত' প্রকাশ করেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়া ৪২ দিনের শুনানির পর সিদ্ধান্তটি তৈরি করতে প্রায় দুই বছর সময় লেগেছে।

সিটির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক রায়: ৯০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি আয়ের কারসাজির অভিযোগ | সময় নিউজ