আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪২

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এপি
শনিবার (৩ অক্টোবর) হোয়াইট হাউস থেকে ওহাইও যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। ট্রাম্প দাবি করেন, বর্তমানে তেলের দাম কমছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা শুরুর পর থেকেই তেলের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি।
ট্রাম্প বলেন, ‘তেলের দাম কমছে। এখন তেলের দাম কম এবং বাইডেন প্রশাসনের সময়ের চেয়েও কম। অথচ তারা ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার বিষয়ে কিছুই করেনি।’
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আপনারা জানেন যে, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রায় সব পরিকল্পনাই ‘কার্যত ত্যাগ করেছে’।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। গত মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরের সময়ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
পেজেশকিয়ান বলেন, ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞার কারণে তেহরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের অধীনে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কমিয়ে আনার প্রস্তাবও দেন তিনি।
তবে ইরান জানিয়েছে, তাদের শান্তিপূর্ণ বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কোনো আপস করবে না। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত কাঠামোগত কোনো ছাড়ও দেয়া হবে না বলে জানিয়েছে তেহরান।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় পরিসরে যুদ্ধের শঙ্কা। ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন গণমাধ্যম এক্সিওসের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাম্প ডেভিডে ঘণ্টাব্যাপী গোপন বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এতে অংশ নেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ, জয়েন্ট চিফস চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
আলোচনার একটি বড় অংশ ছিল ইরানের সঙ্গে থমকে থাকা কূটনৈতিক প্রচেষ্টা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান ফেরানোর কথা বিবেচনা করছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
অন্যদিকে বড় ধরনের সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরানও। তেহরানে বেসামরিকদের সামরিক ও প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণ দিতে প্রশিক্ষণকেন্দ্র চালু হয়েছে। নতুন কেন্দ্রে বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, বাধা অতিক্রম এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তির মাধ্যমে সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। বাসিজ কর্মকর্তাদের দাবি, প্রায় এক হাজার ব্যাটালিয়নকে প্রশিক্ষণের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

