আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৭

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দী ক্রিস্টা পাইক (বায়ে) ও টেনেসি অঙ্গরাজ্যের কারাপ্রধান ফ্রাঙ্ক স্ট্রাডা। ছবি: এপি
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের কারাপ্রধান ফ্রাঙ্ক স্ট্রাডার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দী ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ব্যর্থতার পর শনিবার তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেনেসির গভর্নর বিল লি জানিয়েছেন, ফ্রাঙ্ক স্ট্রাডা এ মাসেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন।
ফ্রাঙ্ক স্ট্রাডা বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য দুই ডোজ ইনজেকশন দেয়ার পরও ক্রিস্টার বেঁচে গেছেন। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। এ পরিস্থিতিতে টেনেসিবাসীর স্বার্থে তিনি পদত্যাগ করছেন।
এক বিবৃতিতে স্ট্রাডা আরও বলেন, তার পদত্যাগ করাই ‘রাজ্যের সর্বোত্তম স্বার্থে’ হবে। একই সঙ্গে তিনি ঘটনার চলমান তদন্তকে সম্পূর্ণ উপযুক্ত ও প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেন।
হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাইককে গত বুধবার দুটি ইনজেকশন প্রয়োগের পরেও বেঁচে গেছেন এবং বর্তমানে টেনেসির একটি হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন। আসামির আইনজীবীরা তার সাজা কমানোর বা পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন।
গভর্নর বিল লি বলেন, স্ট্রাডা সততার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এই কঠিন সময়ে টেনেসির জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়ার ক্ষেত্রে তার সদিচ্ছার আমি প্রশংসা করি।
পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচেষ্টার বিষয়ে একটি নিরপেক্ষ পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন এবং এ বছরের জন্য অঙ্গরাজ্যটিতে সব ধরনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন।
পাইকের আইনজীবীরা পদত্যাগকে যৌক্তিক বলে অভিহিত করেছেন। একইসঙ্গে এ ঘটনা ভুক্তভোগীর কোনো উপকারে আসবে না বলে জানিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে পাইকের আইনি দল জানিয়েছে, বুধবার ক্রিস্টার সঙ্গেযা ঘটেছে, তা এমন এক কাঠামোগত ব্যর্থতার প্রতিফলন যা কোনো একজন ব্যক্তির সীমাবদ্ধতার গণ্ডি ছাড়িয়ে অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। আমরা আশা করি, পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ পর্যালোচনার জন্য গভর্নরের আহ্বান টেনেসির সামগ্রিক মৃত্যুদণ্ড ব্যবস্থায় বিদ্যমান গভীর সমস্যাগুলোকে সবার সামনে তুলে ধরবে।
জানা গেছে, বিষাক্ত ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দুই দফা চেষ্টা সত্ত্বেও অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন ক্রিস্টা পাইক। তবে এই ঘটনার পর তার চিকিৎসাসেবা এবং আইনি ভবিষ্যৎ নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ১৯৯৫ সালে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমায়ারের হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা পাইক ২০০ বছরের মধ্যে টেনেসি অঙ্গরাজ্যের প্রথম মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী হতে যাচ্ছিলেন।
আইনজীবীদের বরাতে আরও জানা গেছে, পেন্টোবার্বিটালের দুটি প্রাণঘাতী ডোজ শরীরে দেওয়ার পরও বেঁচে যাওয়া পাইকের অবস্থা সংকটাপন্ন এবং তাকে বর্তমানে নিবিড় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

