ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০২৪

নারীদের জামাতে নামাজ পড়া উত্তম নয়: জাতীয় মসজিদের খতিব

নারীদের জামাতে নামাজ পড়া উত্তম নয়: জাতীয় মসজিদের খতিব

মুফতি রুহুল আমীন

এম এ আহাদ শাহীন

প্রকাশ: ০২ মে ২০২২ | ১২:১২ | আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২৩ | ০৬:০৬

ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চ্যানেল 24 অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন মুফতি রুহুল আমীন। সাক্ষাতকার নিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক এম এ আহাদ শাহীন

প্রশ্ন: মসজিদ অনেক জায়গায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাজে ব্যবহার হয়, যেমন অনেক মাদরাসায় মসজিদে ক্লাস হয়। এটা কি করা যায়? 
মুফতি রুহুল আমীন: যদি বিনিময় নিয়ে পড়ানো হয় তাহলে মসজিদে তালিম দেয়া ঠিক না। যদি বেতনভুক্ত না হয় তাহলে সমস্যা নেই। কারণ মসজিদ তো তালিমের জন্যই। জিকিরের জন্যই। ক্লাস হতে পারে সাময়িকের জন্য তাহলে কোনো দোষ ত্রুটি নেই। আর যদি স্থায়ীভাবে হয়, সেটা যদি বৈতনিকভাবে হয় তাহলে অবশ্যই ঠিক হবে না। যদি সেখানে ফ্রি কুরআন শিক্ষা দেয়া হয় তাহলে কোনো অসুবিধা নেই। এটাও জিকির। আমরা মনে করি যে শুধু জবানে জিকির করলেই যে শুধু জিকির করা হয় তা নয়, তালিম দেয়া, শিক্ষা (দরস) দেয়া এটাও জিকির।  

প্রশ্ন: মসজিদে নামাজ আদায় ছাড়া আর কোনো কাজে ব্যবহার করার সুযোগ কি আছে? থাকলে সেগুলো কি কি?
মুফতি রুহুল আমীন: সেটা একটা বড় প্রশ্ন। আমি হিসেব করে বলতে পারবো না শুধুমাত্র দ্বীনি ও ধর্মীয় বিষয় ছাড়া দুনিয়াবি কোনো কিছু মসজিদে করা সঠিক নয়। শুধু মাত্র যারা এতেকাফ করেন তাদের যতটুকু প্রয়োজন। এর বাহিরে মসজিদ ব্যবহার করা, মসজিদে দুনিয়াবি কথা বলা হাদীসে নিষেধ আছে।  

প্রশ্ন: অনেকেই মনে করেন, জুমআর নামাজের খুতবা বাংলায় ও সমসাময়িক বিষয়ে হওয়া উচিত, আপনার কি মন্তব্য?
মুফতি রুহুল আমীন: জুমার খুতবা হলো নামাজেরই একটা অংশ। কুরআনে এটাই বলা হয়েছে। এ হিসেবে আররি ভাষা ছাড়া অন্যকোনো ভাষায় খুতবা দেয়া এটা শরীয়ত সম্মত নয়। যারা মনে করে সেটা তাদের ব্যাপার। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের এটাই মাসআলা। আমরা এটায় মানি। বাংলায় দেয়া বা অন্য যেকোনো ভাষায় দেয়া যেহেতু প্রয়োজন, সে প্রয়োজনটা হলো জুমার পূর্বে একটা বয়ান দেয়া হয়, যার দ্বারা সেটা পরিপূর্ণ হয়ে যায়। খুতবাকে টেনে হেচঁড়ে অন্য কোনো কিছুর ভেতরে নেয়া সঠিক নয়। ইসলাম সম্মতও নয়। 

প্রশ্ন: ঈদের জামাতে নারীরা অংশ গ্রহণ করতে পারবে কি?
মুফতি রুহুল আমীন: এই বিষয়টা খুবই জটিল। যেহেতেু বর্তমান প্রেক্ষাপটে মাসআলা মাসায়েল পরিবর্তন হয়, সেই প্রেক্ষাপটের কারণে পর্দা এবং আনুষাঙ্গিক যেসব বিষয় আছে, সব বিষয় বিবেচনা করে ওলামায়ে কেরামরা এখন অনুমতি দিচ্ছেন না। কারণ ভালোর চেয়ে মন্দ যদি বেশি হয় সে ক্ষেত্রে বিবেচনা করে দেখা গেলো, যেটা কল্যাণ ও শরিয়ত সম্মত সেটাই করা উচিত। ঈদের জামাত বা জুমার জামাত সেখানে নারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকে। সেখানে তারা নামাজ পড়লে নামাজ হবে না সেটা কিন্তু নয়। নামাজ হবে, তবে বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে নারীদের জামাতে নামাজের বিষয়ে ওলামায়ে কেরাম একমত নয়। আর জামাতে নারীদের নামাজ পড়া এটা তাদের জন্যও উত্তম নয়, যা নবীজীই বলে দিয়ে গেছেন।

আরও পড়ুন: সবাই মেনে নিলে দেশে প্রধান মুফতির পদ হতে পারে: জাতীয় মসজিদের খতিব

আরও পড়ুন

×