দেশের খবর

যুবদল নেতার চাঁদাবাজি, বিডা বলছে সন্ত্রাসীর ‘দল নেই’

চাঁদাবাজি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৫, ১৩:৩০

যুবদল নেতার চাঁদাবাজি, বিডা বলছে সন্ত্রাসীর ‘দল নেই’

দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলের কারখানায় ঢুকে চাঁদাবাজির কথা জানিয়ে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)।

মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানায়।

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের একটি কারখানায় চাঁদা দাবি ও কর্মকর্তাদের মারধরের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া হয়।

গত কয়েক মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, কারখানায় লুটপাট ও যন্ত্রাংশ খুলে নেওয়ার খবরের মধ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চলের কারখানায় ঢুকে চাঁদাবাজির ওই ঘটনা ঘটে।

ওই ঘটনায় শওকত আকবর ওরফে সোহাগ নামে এক যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে জোরারগঞ্জ থানায় মামলা করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।

শওকত আকবর মিরসরাই উপজেলার কাটাছড়া ইউনিয়নের বাড়িয়াখালী গ্রামের মৃত মফিজুর রহমানের ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

সোমবার বিকালে শওকত আকবরের নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০টি মোটরসাইকেলে করে ১০-১২ জন লোক মিরসরাইয়ের অর্থনৈতিক অঞ্চলের ইছাখালী এলাকায় নির্মাণাধীন বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ভেতরে ওই কারখানার জেনারেল ম্যানেজার হাসিবুল হাসানের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে না চাইলে শওকতের সঙ্গে কারখানার মহাব্যবস্থাপক হাসিবুল হাসান ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক আব্দুস সামাদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে কারখানার কর্মকর্তা ও শ্রমিকদের মারধর করে ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যান তারা। মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক মো. কামরুল হোসাইন এ ঘটনায় ১২ জনের নাম উল্লেখ ও ৮ থেকে ১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেছেন।

বিডার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে গতকাল সোমবার একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে। সেখানে একটি রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে কতিপয় স্থানীয় সন্ত্রাসী একটি কারখানায় জোরপূর্বক প্রবেশ করে চাঁদা দাবি করে এবং পরবর্তীতে কারখানার কর্মকর্তাদের মারধর করে।

আরও বলা হয়, ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট কারখানার পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার ভিত্তিতে পুলিশ ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

সরকার এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে, সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

অপরাধ সংঘটনের সঙ্গে সঙ্গেই দোষীদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে সরকার তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তৎপরতার প্রমাণ দিয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সন্ত্রাস দমন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে বাংলাদেশ পুলিশসহ অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। শিল্পাঞ্চল ও অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে বেজা ও বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই। তারা কেবলই সমাজ ও অর্থনীতির শত্রু। দেশের সব রাজনৈতিক দলকে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে এবং সহযোগিতা করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এসব কার্যকলাপ সমর্থন করেন না। তাদের ইতিবাচক ভূমিকা ছাড়া দেশে টেকসই বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, আমরা বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে চাই যে, এই ধরনের অপরাধ দমন এবং ভবিষ্যতে প্রতিরোধে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিক ও প্রস্তুত।

দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির চালিকাশক্তি হিসেবে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ছে উল্লেখ করে বলা হয়েছে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা শুধু বিনিয়োগের পরিবেশ নষ্ট করে না, বরং দেশের ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।

যুবদল নেতার চাঁদাবাজি, বিডা বলছে সন্ত্রাসীর ‘দল নেই’ | সময় নিউজ